রুমানিয়া

২ লাখ ৩৭.৫ কিলোমিটার আয়তনের ইউরোপীয় এই দেশের লোক সংখ্যা ২ কোটি ২৪ লাখ (১৯৮২’র তথ্য)। হিটলারের ফ্যাসিস্ট বাহিনী উৎখাত হওয়ার পর ১৯৪৪ সাল থেকে দেশটি সমাজতন্ত্রের পথে অগ্রসর হতে শুরু করে।

প্রাচীন কথা

দানিয়ুবের তীরে রুমানিয়ায় প্রাচীনকালে দাস প্রভুদের রাজত্ব গড়ে উঠেছিল। দ্বিতীয় শতাব্দীতে রোম সাম্রাজ্যের অধীনে স্বাধীন একটি প্রদেশে পরিণত হয় দেশটি। বিভিন্ন সময়ে গোথ, হুন, জেপিড, এভারস, তাতার, হাঙ্গেরিয়ান প্রভৃতি শক্তির আক্রমণ ঘটে দেশটির ওপর। শ্লাভরা শরণার্থী হিসেবে এসে এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। চতুৰ্দ্দশ শতাব্দীতে বিদেশীদের বিতাড়ণ করে রুমানিয়ায় স্বাধীন সামন্তবাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীন রুমানিয়ার ওপর এরপর নেমে আসে তুর্কী আক্রমণ। রুমানিয়রা তুর্কী আক্রমণ প্রতিহত করলেও কার্যতঃ রুমানিয়া তুর্কীদের অধীনে চলে যায় ১৩৩৪ সালের পর। তবে তুর্কী সুলতানাতের অধীনে রুমানীয় সরকার করদ রাজা হিসেবে বহাল থাকে। অবশ্য এরপরও অনেকবার তুর্কীদের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে দেশটিতে বেশ কয়েকবার কৃষক বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। তুর্কীদের সাথে রুশদের যুদ্ধের পর এই অঞ্চলে তুর্কী নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে পড়ে। ইত্যবসরে দেশে বুর্জোয়া ভাবাদর্শ জাগ্রত হয় এবং জাতীয় স্বাধীনতা অর্জন ও জাতীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকে আন্দোলন শুরু হয়। ১৮৫৭সালে রুমানিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং তুর্কী বিরোধী যুদ্ধে রাশিয়ার সাথে যোগ দেয়। পরের বছর বালিনে ইউরোপীয় শক্তিসমূহের সম্মেলনে এই রাষ্ট্রের অস্তিত্ব স্বীকার করে নেওয়া হয়। দেশে কায়েম হয় রাজতন্ত্র।

বুর্জোয়া বিকাশ ও শ্রমিক-কৃষকের আন্দোলন

স্বাধীন রুমানিয়াতে রাজতন্ত্র চালু হলেও কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, সংস্কৃতি ইত্যাদির বেশ অগ্রগতি সাধিত হয়। এই সময়ে শিল্পের কিছু বিকাশের ফলে পুঁজিপতিদের প্রভাব বাড়তে থাকে। বিদেশী পুঁজির অনুপ্রবেশও কিছু কিছু ঘটতে থাকে। দুইটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়। রুমানিয়ান একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পণ্ডিত সৃষ্টি হওয়া শুরু হয়। একই সাথে সৃষ্টি হয় শ্রমিক শ্রেণী। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে তাদের সংগঠন।

প্রথমদিকে রুমানিয়াতে দুইটি রাজনৈতিক দলের অস্থিত্ব ছিল: বৃহৎ ভূস্বামীদের স্বার্থরক্ষাকারী কনজারভেটিভ পার্টি ও বুর্জোয়াদের স্বার্থরক্ষাকারী লিবারেল পার্টি। উনিশ শতকের শেষ দিকে একটি শ্রমিক সংগঠন জন্মলাভ করে ‘জেনারেল এসোসিয়েশন অব রুমানিয়ান ওয়ার্কার্স’ নামে। এই সংগঠন অর্থনৈতিক দাবি-দাওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ও সমাজতন্ত্রের কথাও প্রচার করতো। ১৮৯৩ সালে গঠিত হয় সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব দি ওয়ার্কার্স ইন রুমানিয়া। তবে এই দল শ্রমিক শ্রেণীর খাঁটি দল ছিল না, বিভিন্ন স্তরের মানুষ মিলে একটি মিশ্র শ্রেণীর দল হিসেবে একে গড়ে তোলে। মতাদর্শ, রাজনৈতিক বক্তব্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিভিন্নতা দেখা গেছে। কয়েক বছর পর ১৮৯৯ সালে দল থেকে নিবেদিত প্রাণ সাচ্চা বিপ্লবীরা ছাড়া অন্যরা বের হয়ে যান। সংখ্যায় অল্প হলেও এই বিপ্লবীরা বিভিন্ন দেশের শ্রমিক শ্রেণীর আন্দোলনের সাথে দলের যোগসূত্র রচনা করতে সচেষ্ট হন। ১৯০৫-০৭ সালে প্রতিবেশি রাশিয়ায় সর্বহারাদের সংগ্রামের সাথে এই দল সংহতি প্রকাশ করে এবং প্রবাসী রাশিয়ান অনেক বিপ্লবী নেতা-কর্মীকে আশ্রয় প্রদান করে।

১৮৮৮ সালে রুমানিয়ার অনেক অঞ্চলে কৃষকরা সামন্তবাদী শোষণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সংগ্রাম শুরু করেন। তবে কৃষকদের সবচেয়ে বড় অভ্যুত্থান হয় ১৯০৭ সালে। দেশব্যাপী পরিচালিত এই কৃষক অভ্যুত্থান সরকার নির্মমভাবে দমন করে। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, হাজার হাজার গ্রেপ্তার হয় এবং নিহত হয় ১১ হাজার। কৃষকদের এই অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার পরবর্তীতে কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ: কমিউনিস্ট পার্টি'র জন্ম

প্রথম মহাযুদ্ধে রুমানিয়া মিত্র শক্তির পক্ষে যোগ দেয়। স্বাধীনতা লাভের সময় ট্রানসিলভানিয়া প্রদেশ রুমানিয়ার সাথে যুক্ত করা হয়নি। মিত্র শক্তি যুদ্ধের পর এই প্রদেশটি রুমানিয়াকে দেওয়ার অঙ্গীকার করে। যুদ্ধের সময়

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion